মো. ইশতিয়াক আহাম্মেদ
ইব্রাহীম মেডিকেল কলেজ (বারডেম), ঢাকা।
এমবিবিএস (শেষ বর্ষ)
০৫ জুলাই, ২০২৪ ১০:২১ এএম
আত্মহত্যা কেন বেড়েই চলছে?
বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পত্রিকা খুললেই চোখে পড়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত সব খবর। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে এই হার দিন দিন বেড়েই চলছে।
পারিবারিক চাপ, প্রেমে ব্যর্থতা, পরকীয়া সম্পর্ক, বিবাহ বিচ্ছেদ, পড়াশোনা কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে না পারা, দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত, ঋণের ভারে জর্জরিতসহ নানা কারণে মানুষ সাধারণত আত্মহননের পথ বেছে নেয়।
কিন্তু যে মানুষটি দুনিয়াকে বিদায় জানিয়ে চলে যায় তার পরিবারকে সমাজের কাছে কতটা হেনস্তার শিকার হতে হয়, সামাজিক অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটা কি কখনো চিন্তা করে দেখে কেউ?
মানুষ হয়তো মরে গিয়ে মুক্ত হতে চায়, কিন্তু এটা কোনো সমাধান নয়। সকল ধর্ম মতেই আত্মহত্যা মহাপাপ। ইসলামে আত্মহত্যার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা থাকার পরেও মুসলিম প্রধান এই দেশে আত্মহত্যার মত বড় অপরাধ মেনে নেওয়া অনেক কঠিন।
মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেন, ‘‘তোমরা নিজেদের হত্যা করো না নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু এবং যে সীমা লঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে তা (আত্মহত্যা) করবে তাকে অগ্নিতে দগ্ধ করবো, এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ’’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত:২৯-৩০)। কোরআনে আরো বলা হয়েছে, ‘‘তোমরা নিজের হাতে নিজের জীবনকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না’’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত:১৯৫)।
অর্থাৎ প্রত্যেকটি মানুষকে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা উচিত। আবেগের বশবর্তী হয়ে হুটহাট সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। গত কয়েক বছরে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, সচিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ উচ্চশিক্ষিত অনেক মানুষের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।
এটা সত্য যে, কেউ ইচ্ছা করে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে না। অনেক যুদ্ধ করে যখন নিজের সাথে পেরে না উঠে তখনই কেবল একজন মানুষ এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এজন্য উচিত নিজের কষ্টের কথাগুলো নির্ভরযোগ্য আপন মানুষদের সাথে বলা। এতে করে আপন মানুষদের কাছ থেকে সান্ত্বনা দিবে বা কখনো বিকল্প কোন পথের সন্ধান দিবে।
আবার অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ যে কোন বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে করতে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে তখন উচিত একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া এবং নিয়মিত তার তত্ত্বাবধানে থাকা। এই সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে নিজ নিজ ধর্মীয় বিধি-নিষেধগুলো ভালোভাবে মেনে চলতে হবে, সন্তানদেরকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে এবং জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
এনএএন/
-
১৮ জানুয়ারী, ২০২৫
-
০৫ জুলাই, ২০২৪
-
২৯ জুন, ২০২৪
-
২৬ জুন, ২০২৪
-
২১ জুন, ২০২৪
-
১৯ মার্চ, ২০২৪
-
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩